রোজার হাকিকতঃ
~~~~~~~~~~~~~
রোজা ফার্সি শব্দ।আরবিতে রোজাকে সিয়াম বলা হয়।যারা রোজা পালন করেন তাদের কে সায়েম বলা হয়।
"সিয়ামের " বুৎপত্তিগত অর্থ হল বিরত থাকা বা বর্জন করা এবং বর্জনকৃত অবস্থাতে স্থিত থাকা বা অটল থাকা।দুনিয়া হতে মনকে বিরত বা বারিত করে রাখার
কার্যক্রম কে বা প্রচেষ্টাকে "সিয়াম "বলে।শুধু পেটকে খালি রাখার নাম রোজা নয়, মনকে খালি রাখার নাম রোজা। অর্থাৎ সিয়াম করা অর্থ সপ্ত ইন্দ্রীয়দ্বার দিয়ে যা কিছু বিষয়বস্ত মস্তিস্কে প্রবেশ করে তার মোহ বর্জন করা।এই রুপ বর্জনের গুরুত্ব যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় অর্থাৎ উপলব্ধি করে সেই ব্যক্তিই কেবল এই মাসে সিয়াম করে। অন্য লোকেরা কেবল পানাহারের সময় সূচীর বিধান পালন করেই আত্নপ্রসাদ, লাভ করে, পরিতুষ্ট, পরিতৃপ্ত, পরিশান্ত থাকতে চায়।
কুরআনে বলা হয়েছে "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু
কুতিবা আলাইকুমুচ্ছিইয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন ক্বাবলিকুম লা আল্লাকুম তাত্তাকুন"
২ঃ১৮৩।
অর্থঃ" হে বিশ্বাসীগন,আপনাদের উপর সিয়াম কেতাবস্থ
করা হল যেমন কেতাবস্থ করা হয়েছিল আপনাদের পুর্ববর্তিদের উপর যেন আপনারা তাকওয়া করেন"।
আল্লাহর নুরে তৈরি মানুষ স্বয়ং ই কেতাব যা পাঠ করতে হয় শুন্য হতে এবং এ কেতাবের গঠন হল মোহকামাৎ আয়াত দ্বারা যা বস্তুগুনের সমষ্টি ত্রিশে নিহিত।এ কিতাব খোলা হয়েছে আল্লাহর মৌলিক সপ্ত সিফাৎ দ্বারা।সিয়াম কেতাবস্থ করা হল মানে প্রত্যেক মানব সত্তার সাথে সিয়াম বা রোজা বিজড়িত আছে।
সিয়াম সাধনা এমনি আত্নশুদ্ধির একটি অন্যতম প্রক্রিয়া (ইবাদত পদ্ধতি) যা সকল আত্নশুদ্ধির (ইবাদতের) দরজা স্বরুপ এবং রোজাকে উপেক্ষা করে সত্যের দ্বারগ্রস্থ হওয়া যায়না।ইনসানি বা মানবাত্বার গুনাবলি বিকশিত
করার এবং তা হেফাজত করার ঢাল স্বরুপ রোজা।
বিধায় রাসুল সাঃ বলেছেন "রোজা আত্নরক্ষার ঢাল
স্বরুপ"।হাদিস কুদসিতে আল্লাহ বলেন " রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান" মানে সিয়াম সাধনায় আল্লাহর পরিচয়- বা আল্লাহকে লাভ করা যায়।
শুধু সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ
ইত্যাদি হতে বিরত থাকাই রোজা নয়,এবং ইহা কুরআন পরিপন্থী,কুরআনে এ রোজার কথা বলা হয়নি।
নফসের দুনিয়া মুখী ক্রিয়া কর্ম হতে বিরত থাকা বা
ইন্দ্রীয় পথে মস্তিষ্কে আগত বিষয় রাশিকে পরিশুদ্ধ করা বা আমিত্বের কলুষ হতে মুক্ত হয়ে মনকে আল্লাহর
প্রতি রুজু রাখাকেই সিয়াম বা রোজা বলা হয়।আর কুর আনে এটিকেই সিয়াম বালা হয়েছে যা সার্বজনিন
হিসেবে বিধৃত।সর্ব যুগেই রোজা ছিল বলে ইতিহাস
স্বাক্ষ্য দেয়।এর বাহ্যিক দিকটি হল সকাল হতে সন্ধ্যা
পর্যন্ত পানাহারাদি হতে বিরত থাকার আনুষ্ঠানিক রোজা।কিন্তু এটি আসল রোজা অবশ্যই নয়,তবে এখান হতে শুরু মানে এটি প্রতিক বা রুপক হিসেবে বিধৃত
এবং এটি ইহলোকের বিষয় যা দৈহিক স্বাস্থ্যগত
ও সামাজিকতার একটি দিক হিসেবে বিবেচিত।আসল
বুঝার জন্য বা চেনার জন্য রাসুল সাঃ প্রতীকের বা রুপকের অবতারন করেছেন, বিধায় ইসলামের
আনুষ্ঠানিকতা স্বীকৃত।কিন্তু মুল হতে বিচ্যুতহলে
আনুষ্ঠানিকতার কোন মুল্যই থাকেনা।মুল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। কুরআনের
রোজা সার্বক্ষনিক,এবং সার্বজনিন।বিধায় যারা শুধু পানাহার,স্ত্রী সম্ভোগ ইত্যাদি হতে বিরত থাকা কেই
রোজা বুঝে এবং পার্থিব বা জাগতিক বিভিন্ন ডিজাইনের, বাহারি রকমের খাদ্য বিলাশিতাকে,খাবার খাওয়াকে ইফ্তার বুঝে এরা
ওহাবী, মৌলবাদী, ধর্মভ্রষ্ট প্রতারক।এ সমস্ত নির্বোধ মৌলবাদী গন এজন্যই রমজান মাসে হোটেল রেস্তোরাগুলি বন্ধ করার জন্য মিছিল মিটিং করে থাকে।উদ্দেশ্য জোর করে তাদের রোজা রাখতে বাধ্য করবে।এ সমস্ত জঘন্য কুকির্তি মুসলমান সমাজে ছিল,আছে অন্য ধর্মে নেই।এরা চিনির বস্তা বহন কারি,
,গাধার মত,জানেনা তার পিঠে কি আছে মানে রোজার হাকিকত এরা বুঝেনি,বুঝতে চাইনি,বুঝতে দেয়না।
এরা ধর্মের ছদ্মাবরনে এক এক ডিগবাজিতে বিভিন্ন
ডিজাইনে যুগে যুগে অবস্থান করে,।বিধায় সাধারন মানুষ তাদের কে চিনতে পারেনা।মুয়াবিয়া ইয়াজিদ ও
তাদের পোষা মৌলবিগন রোজা বলতে শুধু জৈবিক
দেহের পানাহারাদি হতে বিরত থাকাকেই এবং পার্থিব
সন্ধ্যা আহারকেই ইফতার বলে থাকে।এবং তাদের অনুসারিরা বর্তমানে তাই বুঝে এবং বুঝিয়ে থাকে।
এরা নবি বংশের মাথার উপর খড়গ বা তলোয়ার ধরে।হত্যা করে তাদের কথিত মতবাদগুলি ইসলামরে নামে চালিয়েছে যা অদ্যবদি অধিকাংশ মুসলমান কাঁধে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
হাকিকতের ইফতার হল ফাতের শব্দ হতে ইফতার
শব্দের উৎপত্তি।ফাতের অর্থ ভেংগে ফেলা,ছিড়িয়ে ফেলা,বিদির্ন করা।এটি বস্তুমোহের বেড়া ভাংগা ব্যতীত আর কিছুই নয়।যিনি সিয়ামে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মন কে মুক্ত করেছেন,মনকে পরিশুদ্ধ করেছেন, বস্তু মোহের বেড়াজাল ভেংগে দিতে স্বক্ষম হয়েছেন তার ইফতার হয়ে গেছে।খুব তাড়াতাড়ি ইফতার করার অর্থ হল খুব তাড়াতাড়ি বস্তু মোহকে
অর্থাৎ নফসে আম্মারা বা কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ,মাৎসর্য্য এই ষড় প্রবৃত্তিকে ভেংগে ফেলা, দুরকরা।
রমজান শব্দটি রমজুন শব্দ হতে উৎপত্তি।
রমজান মানে জ্বলে যাওয়া,বা পুড়ে যাওয়া,।কারন
,যেহেতু রমজানে সমস্ত গুনাহকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়
তথা জীবাত্নার গুন খাছিয়ত পরিহার করে ইনসানিয়াত
প্রতিষ্ঠিত হয় তাই একে রমজান বলা হয়।এ মাস পার্থিব কোন মাস নয়।পার্থিব মাস রুপক বা আসলের উপমা স্বরুপ আছে।রুপকের পর্দা ভেদ করলে আসলের হাকিকত পাওয়া যাবে।কাজেই রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয় -এ মাস চিরন্তন শ্বাশ্বত কালের মাস,যা অখন্ড কালে বিরাজিত।পার্থিব বা জাগতিক মাস কখন ও পবিত্র অপবিত্র হতে পারেনা,
যদি না মানুষের কোন স্মৃতির সংগে বিজড়িত থাকে।যেহেতু কুরআনের ভাষা রুপক,সেহেতু রুপকের আবরন উন্মোচন করলে হাকিকত পাওয়া যাবে।
তাই
পবিত্র কোন বস্তকে নির্দেশ করার জন্য জাগতিক
মাসগুলি কে রুপকে এনে পবিত্র বলা হয়েছে।আমরা
সকল মানুষ রোজার হাকিকত জেনে রোজা পালন
করে, রমজানে লামউতে পৌঁছার সাধনা করে জীবন
কে কুরআনের আলো কে প্রস্ফুটিত করার জন্য দৃঢ়
প্রতিজ্ঞ হই।আমীন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন