আল কুরআনে জন্মান্তরবাদ (১ম পর্ব )
===========================
জন্মগ্রহণ করেছি একটা সাইনবোর্ড ব্যবহার করে, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ এক কথায় প্রতিটি জীবই একটি প্লাটফর্ম নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে। জন্মের পর থেকেই প্রতিটি প্রানি ধারকের সাহায্য সহযোগিতায় বেড়ে ওঠে। তাই নিজের কোন স্বাধীন জ্ঞানকে বিবেচনায় নিতে পারেনা যতক্ষণ না সে মেচিউড হয় জ্ঞান এবং ফিজিকালভাবে।
তাই স্বভাবগত ভাবেই নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ সহ সকল প্রাণীই গভেষনার ফসল ফলাতে অনেকটাই অক্ষম হয়। সেজন্য পরিবেশ, জাতীয়তাবাদ,সমাজ, সাইনবোর্ড প্রায় সব কিছুই দায়ি। এই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হতে হলে প্রতিটি মানুষকেই নিজ দ্বায়িত্বে সৃষ্টি লজিক নিয়ে নিরপেক্ষ গবেষণা করা প্রয়জন মনে করি।
প্রায় ধর্মেই শ্রদ্ধেয় মৌলবাদ তথা চরমপন্থী সম্প্রদায়ের জনাব জনাবারা ধর্মকে জটিল কুটিল করে থাকেন, আর এ জন্যই বর্তমান বিশ্বের জ্ঞানের যুগের মানুষেরা প্রচলিত ধর্মের লেবাসে কালি মেখে প্রতিনিয়ত নাস্তিকতার পথ বেছে নিচ্ছেন। তাতে ধর্মের যে অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে তা গলাবাজি করে বন্ধ করা যাবেনা।
যাই হোক আলোচনা জন্মচক্র নিয়ে।
জন্মচক্র বলতেই আমরা আরবী ইসলামী অনুসারীরা মনে করি এটা হিন্দু ধর্মীয় একটি ভ্রান্তিমূলক কথা। কিন্তু এই অমৃত বানীটিযে পবিত্র কুরআন শরীফে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ আছে সেটা আমরা অনেকেই জানিনা। কারন আমরা যারাই একটু জানার চেষ্টা করি তারাই বাংলা অনুবাদ কিনে পড়ি এবং কুরআন বুঝার চেষ্টা করি। কিন্তু ধর্মের সেনসেটিভ বিষয় গুলো হুবহু অনুবাদ না করায় আরবের ইসলামের সাথে বাংলা ইসলামের হুবহু মিল নাই।
জন্মচক্র একটি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ মেটার অথচ এটাকে পুরোই ঢেকে দিয়েছে ধর্ম বেপারী আরবী পন্ডিতরা। পবিত্র কুরআন শরীফে স্পষ্টভাষায় বর্ননা হয় জন্মচক্র নিয়ে। আল্লাহ বলেন ---
يخرج الحي من الميت ويخرج الميت من الحي و يحيي الارض بعض موتها وكذلك تخرجون
সুরা রুম, আয়াত ১৯
অর্থঃ আমি আল্লাহ মৃত থেকে জীবিত করি এবং জীবিত থেকে মৃত করি ( ওয়া ইউহয়িল আরদা) এবং পৃথিবীতে জীবিত করি ( বাআদা মাওতিহা) তাহার মৃত্যুর পরে এবং এভাবেই তোমাদের বের করে দেই।
উপরের আয়াতে কারিমায় স্পষ্টই বলা হয়েছে ওয়া ইউহয়িল আরদা বাআদা মাওতিহা যার অর্থ হচ্ছে মৃত্যুর পর পৃথিবীতে জীবিত করা। অথচ এই অনুবাদটি বাজারের কোন তাফসির বা অনুবাদেই অনুবাদক অনুবাদ করেনি ।
কিন্তু কেন তাদের অনুবাদে সত্য প্রকাশের এই চরম অনিহা আদৌ বোধগম্য নয়। যদি সাধারণ মানুষ বুঝতে সক্ষম হয় সে তার কর্মফল ভোগ করার জন্য আবার দেহ ধারন করে পৃথিবীতে অবতারন করবে নিশ্চয় একটু হলেও অন্যায় থেকে বিরত থাকতো।
কিন্তু ঝোলা ব্যবসায়ী এই অনুবাদকরা চিন্তা করলেন মানুষ বেশি অন্যায় অত্যাচার পাপ গুনাহ না করলে আমাদের দ্বারে দ্বারে দোয়ার জন্য ঘুরবেনা আর আমরাও মুনাফা থেকে বঞ্চিত হবো, দুনিয়াতে আমাদের চলার জন্য স্বাভাবিক কর্মের প্রয়জন হবে।
তাই যদি না হয় তাহলে এই আয়াত ১৪০০ বছর যাবত ধর্মবেত্তাগন পড়েই আসছে আর মিথ্যার ফুলঝুরি ছড়িয়ে এক রাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সুর দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করে।
এই রকম বহু বিষয়ে ধর্মবেত্তাগন নিজেদের মনগড়া মতবাদ প্রচার করে নিজের উদর পূর্তি করার হীন পায়তারায় মত্ত মাতাল। জানি অনেকেই আমাকে ভুল বলবে এবং ক্ষতি সাধন করার অপচেষ্টা করবে কিন্তু কি লাভ হবে বলুনতো ?
একবার নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখুন আয়াতে কি বলা হয়েছে ???
আসুন সকলে কুরআন বুঝার চেষ্টা করি ধর্মীয় মিথ্যাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন